লাইটহাউস ব্লগ।। অনন্ত পথের অভিযাত্রী

ذو الحجّة ১৪৩৯ | ৫ ভাদ্র ১৪২৫ | মঙ্গলবার ২১ অগাস্ট ২০১৮ রাত ০২:৪৮(ঢাকা সময়)

 

সম্পাদকের পছন্দ

আবিসিনিয়ার হিজরত থেকে শিক্ষণীয় বিষয় (সদ্য প্রকাশিত প্রিয়নবীর প্রিয়জীবন বই থেকে)
- মাই নেম ইজ খান


বর্ণময় সফর বর্ণিল সফর
- শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী


এক ধর্মের উৎসব অন্য ধর্মের জন্য নয়
- মুহা: ওবাইদুল্লাহ


সফলভাবে অনুষ্ঠিত হলো 'প্রযুক্তির আলোয় সত্যের পথ' -আলহামদুলিল্লাহ।
- মাই নেম ইজ খান


আমরা কি এই বীর নারী যোদ্ধাকে চিনি?
- জুন্দুল্লাহ্ 'আব্দুল্লাহ্


বদলে যাবার গল্প
- ফাহমিদা মুন্নী


আত্মার খোরাক
- রেহনুমা বিনত আনিস


হিজাবঃ বিকৃতি, বিচ্যুতি এবং সম্ভাবনা
- সাফওয়ানা জেরিন


ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশের ফেসবুকের লেখা
- কাউয়া


আইস্ক্রিম
- শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী


মা যে আমার
- শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী


ভূমিকম্পের সময় প্রাথমিক করনীয় বিষয়।
- মাজহারুল ইসলাম


দাজ্জালের মহা ফিতনা ও বর্তমান বিশ্বঃ পর্ব-৪
- কায়সার আহমেদ


শামের মুজাহিদদের জীবন সুরক্ষার উদ্দেশ্যে ডাঃ আইমান আল জাওয়াহিরির (হা: ) পক্ষ হতে একটি বার্তা
- জাতির চাচা


মোরা জোনাকি হতে চাই...৩
- আফরোজা হাসান



আরবি পোস্ট

أجمل ادعية يوم الجمعة
- ফরিদুদ্দীন


7 Important Duas for Ramadan
- আবদুললাহ মুজাহিদ


দশটি কারণ : কেন মুসলমানদের আরবী শিখা উচিত?
- অক্টোপাশ


ترك المعاصى............
- কাহাফ


إنه الموت أبلغ المواعظ
- তরুণ প্রজন্ম


القرضاوي: إعلان الخلافة في العراق «باطل شرعاً»
- আল্লাহর গোলাম


أهلا وسهلا
- মাই নেম ইজ খান


أهلا وسهلا
- মাই নেম ইজ খান


أيها العالم الحر المتمدن! بقلم: يحيى يوسف الندوي
- নাবিলা আক্তার


دماء وجرحى وقتلى في ساحة شابلا!! بقلم: يحيى يوسف الندوي
- মুফাচ্ছির হুসাইন


الجهاد فى سبيل الله
- মাই নেম ইজ খান


عناية النبي (صلي) في إعادة الأمن والسلام
- মাই নেম ইজ খান


اهمية عيد الاضحى والاضحية.
- মাই নেম ইজ খান


تاثير النبى حول تهذيب الاخلاق
- মাই নেম ইজ খান


سماع الغناء مع آلة موسيقية محرم باتفاق المذاهب الأربعة واستدامته مسقط للشهادة ومخل بالمروءة التي تجب المحافظة عليها ويحرم الإقدام على ما يخل بها، وسماع الغناء بغير آلة مكروه عند أصحاب المذاهب الأربعة.
- মুফতী যুবায়ের খান রাহমানী



ইংরেজি পোস্ট

The Last Sermon by Muhammad (PBUH)
- আল মারুফ


PHP Group chairman Sufi Mizanur Rahman & 34 of his allies are accused in court of Chittagong issued an arrest warrant for Attempt to Murder & Land Piracy activities.
- লেন্দুপ দর্জি


Impact of Ibadah on Person and Society
- মোসতাফিজুর রহমান


I'm a Muslim....
- ফরিদুদ্দীন


Beads of pain
- হাসান বিন নজরুল


রামাদান - ৩ টি ইমপোরটানট পয়েনট
- আবদুললাহ মুজাহিদ


Beautiful story.
- ফাহমিদা মুন্নী


সিমপল কথা কঠিন কাজ
- আবদুললাহ মুজাহিদ


5th May Hefazat-e-Islam Lessons Learned
- আবদুললাহ মুজাহিদ


Come to Islamic Unity
- আবদুললাহ মুজাহিদ


Fake Freedom of Speech
- আবদুললাহ মুজাহিদ


Show Your Love for Priyo Nabiji SWM, Act Now...
- আবদুললাহ মুজাহিদ


Broken House Laughing Outsider
- আবদুললাহ মুজাহিদ


Zakat for Jihad Fi Sabilillah
- আবদুললাহ মুজাহিদ


Khelafat Movement : The Begining of Muslim and Hindu Rajnoitik Andolon
- আবদুললাহ মুজাহিদ



অনলাইনে রয়েছেন

০ জন ব্লগার ও ৩২ জন ভিজিটর

Visitor Statistics
আজকের ভিজিটর » ২৯৭ জন
গতকালের ভিজিটর » ৩৯৭ জন
সর্বোমোট ভিজিটর » ৪৩৮৮৪৩ জন
Flag Counter

সর্বাধিক শেষ ৭ দিন

অনন্ত পথের অভিযাত্রী

লিখেছেন মাই নেম ইজ খান ২০১৮-০৩-০৭ ১২:৫৪:৫১


হন্তদন্ত হয়ে কোচিংরূমে প্রবেশ করলো তাহিরা। ঝড়ের বেগে ছুটতে হয়েছে, তবুও দেরি হয়েই গেল। আজ দু’দিন হলো, মা বাসায় নেই। জরুরী একটা কাজে খালামনির বাসায় গেছেন, কাল সকালে ফিরবেন। তাই সংসারের সব কাজ তাকেই সারতে হচ্ছে। সকালে উঠে সবার নাস্তা তৈরী করে, রান্না শেষ করতে করতে ক্লাসের সময় পেরিয়ে গেছে। ক্লাসের পরপরই আরবী কোচিং শুরু হয়। তাহিরা পারতপক্ষে এই কোচিংটা কখনো মিস করেনা। কারণ একদিন মিস হয়ে গেলেই পরের দিনের পড়া বুঝা অনেকটা কঠিন হয়ে যায়। অংকের সূত্র না জানা থাকলে যেমন অংক পারা যায়না, ব্যাপারটা অনেকটা তেমনই।

ক্লাসে ঢুকতেই দেখে উস্তায পড়ানো শুরু করে দিয়েছেন। তাহিরার সুবিধার্থে বাদ পড়া অংশটুকু তিনি রিপিট করলেন। বেশকিছু আরবী ব্যকরণের কাওয়ায়েদ নিয়ে আলোচনার পর সাম্প্রতিক ও বিভিন্ন ইসলামিক বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হলো। তারপর একসময় আলোচনার মোড় ঘুরে গেল মৃত্যু সংক্রান্ত বিষয়ে। মৃত্যু বড় কঠিন সত্য। পৃথিবীতে আসার সিরিয়াল আছে, কিন্তু যাওয়ার সিরিয়াল নেই। দাদার পর বাবা, বাবার পর আমরা আসি, কিন্তু যাওয়ার সময় এই সিরিয়াল থাকেনা। যার যখন সময় শেষ হয়ে আসে, তাকেই তখন বিদায় নিতে হয়। মৃত্যু তার আখিকোণেই অন্ধকারের আবরণ টেনে দেয়।

আলোচনা চলছিল কাছ থেকে দেখা মৃত্যুমুখে পতিত হওয়া অল্পবয়সী অথবা হঠাৎ করেই মৃত্যুমুখে পতিত হওয়া সুস্থসবল মানুষদের মৃত্যুর ঘটনাগুলি নিয়ে। সবাই নিজ নিজ জানা ঘটনাগুলি শেয়ার করছিলো। তাহিরার মনে পড়ে গেলো সহপাঠী জান্নাতের কথা। বেশ কয়েকটা বছর তারা একসাথে পড়ালেখা করেছে। দাখিল পরীক্ষার পর জান্নাত অন্য জায়গায় ভর্তি হয়ে গেলো, সেই ই তার সাথে শেষ দেখা।
জান্নাতের ঠোঁটে অনেকগুলি তিল ছিলো। প্রথম যখন ও ভর্তি হলো, সবাই দুষ্টুমি করে বলতো, এগুলি কি কলমের কালি নাকি! তুমি বোধহয় কলমের কালি খাও!
জবাবে সে মৃদু হেসে বলতো, না এগুলি আমার জন্ম থেকেই আছে। কিন্তু এই এগুলিই যে একদিন তার মৃত্যুর উছিলা হিসেবে ভূমিকা রাখবে, তা কি কেউ ভেবেছিলো!

হঠাত্ একদিন পেট ব্যাথা শুরু হলো জান্নাতের। দিন দিন তা বাড়তেই থাকলো। ডাক্তার দেখানো হলো। ডাক্তার কিছু টেস্ট দিলেন। যথারীতি টেস্ট করা হলো। টেস্টের রিপোর্ট দেখে ডাক্তার জানালেন, ওর পেটে টিউমার হয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে অপারেশন করতে হবে। অপারেশন করা হলো, হাসপাতাল থেকে রিলিজও দেয়া হলো। বাসায় আসার কদিন পর থেকেই আবার সেই পেট ব্যাথা শুরু! ডাক্তারকে জানানো হলে, তিনি সব চেক আপ করে জানালেন, অপারেশন সাকসেসফুল হয়নি। ওর আম্মু আব্বু আবার অপারেশন করার কথা বললেন। প্রত্যুত্তরে ডাক্তার বললেন, আসলে অবস্থাটা এমন যে খুব সম্ভবত: তার আয়ু ফুরিয়ে এসেছে। অপারেশন করেও আসলে কোন লাভ হবে বলে মনে হয়না। এখন আরেকবার অপারেশন করা মানে রোগীকে অনর্থক কষ্ট দেয়া। ভেবে দেখুন কি করবেন।

অবস্থা বিবেচনা করে ওর আব্বু আম্মু ওকে বাসায় নিয়ে এলেন। দিন দিন অবস্থার আরো অবনতি হতে লাগলো। হাত পা কঙ্কালসার হয়ে গেলো, পেটটা ফুলে ঢোল হয়ে গেলো। শেষবার যখন ওকে দেখতে গিয়েছিলো আরেক সহপাঠি, ও তাকে বলেছিলো, জানো, আমি অনুভব করি আমি একটা যন্ত্রের মত। আমার সামনে যেই পত্রিকাটি পড়ে আছে, তা হাত দিয়ে তোলার ক্ষমতাটা পর্যন্ত আমার নেই! আমি শুধু অনুভব করি, দেহের ভেতরে টিক টিক শব্দে রুহুঘড়িটা চলছে, যে কোন মূহূর্তে থেমে যাবে!
এসব কিছুই তাহিরা জেনেছিলো অনেক পরে, যখন জান্নাত অনন্ত যাত্রার পথের মুসাফির হয়ে গেছে। তাহিরার বিশ্বাসই হচ্ছিলোনা জান্নাত আর নেই! একসাথে কাটানো মূহূর্তগুলির নানা স্মৃতি আচ্ছন্ন করে রেখেছিলো তাকে। ওর মনে হয়েছিলো ও বুঝি একটা ঘোরের মধ্যে আছে, ঘোরটা কেটে গেলেই দেখবে সব আগের মতই আছে, আর এটা নিছক একটা দুঃস্বপ্ন ছিল! কিন্তু বাস্তবতা যত কঠিনই হোক, তাকে মেনে নিতেই হয়।

প্রায়শঃই কিছু উপলদ্ধি তাহিরার গোটা ভাবনার জগতকে এলোমেলো করে দেয়। জান্নাত কি কখনো ভাবতে পেরেছিলো, তার দুনিয়ার সফর যে এত সংক্ষিপ্ত হবে! তারও তো জীবন নিয়ে কত স্বপ্ন, কত স্বাদ ছিলো, অন্য সবার মত! কিন্তু হঠাৎ করেই অনাহুত অতিথীর মত মৃত্যু এসে যাবতীয় আশার মুখে অন্ধকারের কালো আবরণ টেনে দিল!
আচ্ছা, তাহিরা নিজেও কি জানে তার সফর আর কত দিনের!! কোনদিন বাজবে তার জীবনের বিদায়ের ক্ষণ! ভাবনাটা মন বন্দরে কড়া নাড়তেই অনেকটা চমকে উঠে বাস্তবে ফিরে আসে সে।
জান্নাতের ঘটনাটা আজকে শেয়ার করলো সে। শুনতে শুনতে অন্যদের চোখ বাস্পরুদ্ধ হয়ে এলো। বাকিরাও তাদের জানা ঘটনা শেয়ার করলো।

বান্ধবী নীরা শেয়ার করলো রোদেলার কথা। একসাথে ক্লাস সিক্স পর্যন্ত পড়েছে ওরা। ক্লাস সিক্সে যে বছর উঠলো, তখন থেকে প্রায়দিনই রোদেলাকে কেমন যেন অসুস্থ দেখাতো। চেহারার মধ্যে সর্বক্ষণ কেমন বিষন্নতার একটা ছাপ পড়ে থাকতো। উচ্ছলতাও কমে গিয়েছিল অনেকখানি। একদিন রোদেলার বড়আপুকে কথাটা জিজ্ঞেস করতে তিনি জানালেন, রোদেলার যক্ষ্মা হয়েছে। প্রায় ৮/৯ বছর আগের ঐ সময়টাতে যক্ষ্মা বেশ ভীতিকর রোগসমূহের একটি ছিল। এর চিকিত্সাও ছিল অনেক ব্যয়বহুল।
রোদেলাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা তখন খুব একটা ভালো ছিলনা। সামর্থ অনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়ে গেছেন তারা। ধীরে ধীরে রোগে ভুগতে ভুগতে মাত্র বারো বছর বয়সেই একদিন পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছিল রোদেলা। এত অল্প বয়সেই এই পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে যাবে সে, কেউই ভাবতে পারেনি। টক খেতে খুব পছন্দ করতো সে। প্রতিদিন টিফিন আওয়ারে একসাথে বসে ঝাল শুকনো মরিচের গুড়ো দিয়ে টক ফল খেতো ওরা সব বান্ধবীরা মিলে। রোদেলা মারা যাওয়ার পর থেকে এখনও কোন টক ফল খেতে বসলেই ওর কথা খুব করে মনে পড়ে যায় নীরার।

সুমাইয়া শেয়ার করলো ফারিহার কথা। ক্লাস নাইনে থাকতে বার্ষিক পরীক্ষার বন্ধে ওরা সবাই মিলে নভোথিয়েটারে গিয়েছিল। খুব মজা করেছিল সবাই মিলে। নভোথিয়েটার থেকে আসার পর ফারিহা বলছিল হঠাৎ করেই শরীরটা ভালো লাগছেনা। সে রাতেই ওর জ্বর এলো খুব। পরদিন এক সপ্তাহর ছুটি নিয়ে বাড়িতে চলে গিয়েছিল সে। তিনদিন পর হঠাৎ একদিন সুমাইয়াকে ফোন দিয়ে জানালো ওর জন্ডিস হয়েছে। বান্ধবীর কাছে মাফ চেয়ে নিয়ে বললো, আমার কেন যেন মনে হয়, আমি আর বাঁচবনা। কখনো ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে মাফ করে দিস।
সুমাইয়া ভেবেছিল জন্ডিস তো এখন আর তত মারাত্মক রোগ নয়। এর ভালো চিকিৎসাও আছে এখন। অসুস্থতার কারণেই হয়তো ফারিহার মাথা ঠিক নেই। তাছাড়া অসুস্থ অবস্থায় অনেকেই মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। সে কারণেই হয়তো ফারিহা এভাবে বলছে! কিন্তু তার ঠিক ৩/৪দিন পরেই সে ফারিহার মৃত্যু সংবাদ পেল। আসলে ফারিহার লিভার ক্যান্সার হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু কেউ বুঝতেই পারেনি! ফারিহার মৃত্যু ওর মনে প্রচন্ড রেখাপাত করেছিলো। বেশ কিছুদিন অপ্রকৃতস্থের মত কাটিয়েছিল সে। তারপর সময়ের পথ ধরে আস্তে আস্তে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে।
সবার নিজ নিজ জানা ঘটনাগুলি শেয়ার করা শেষ হলে উস্তাযও তাঁর নিজের দেখা ভীতিকর একটা ঘটনা বললেন। উনার গ্রামে, উনার বাড়ির কয়েক বাড়ি পরে বেশ বিত্তশালী এক লোক থাকতেন। তাঁর বেশ কয়েকজন ছেলে ছিল। লোকটি মারা যাওয়ার আগে তাঁর ছেলেদেরকে ওসিয়াত করে গেলেন, এলাকার মাসজিদ-মাদ্রাসা সংলগ্ন তাঁর যে জমিটা আছে, উনি মারা যাবার পর ঐ জমিটা যেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে ওয়াকফ করে দেয়া হয়, যেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাঁদের মাদ্রাসাটি আরো সম্প্রসারিত করে আরো বেশী ছাত্রদের ই'লম অন্বেষণের সুযোগ করে দিতে পারেন।

লোকটি মারা যাবার পর তাঁর বড় ছেলে ঐ জমিটি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে দেন। এই ঘটনার কিছুদিন পর এলাকায় নির্বাচন হলে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দিতা করেন তিনি। কিন্তু তিনি সত্ ও যোগ্য ব্যক্তি না হওয়ার কারণে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে সমর্থন দেননি। জনসমর্থন না পাওয়ায় নির্বাচনে তিনি হেরে যান। এতে তিনি খুব ক্ষুব্ধ হলেন এবং ভাবলেন, এত বড় একটা জমি দেয়া হল, অথচ হুজুররা তাকে সমর্থন দিলনা, কেমন অকৃতজ্ঞ! এই জমি তাঁদেরকে দেয়া উচিত হয়নি! অথচ নিজের অযোগ্যতা আর অসততার কথা ভেবে দেখলেননা তিনি। ভেবে দেখলেন না, প্রকৃতপক্ষে তিনি সমর্থন পাওয়ার মত যোগ্যপ্রার্থী ছিলেন কিনা!

পরবর্তী জুমআ'র দিনে তিনি ঐ মাসজিদে নামাজ পড়তে গেলেন। নামাজ শেষে তিনি উঠে দাঁড়িয়ে কিছু কথা বলতে চাইলেন। নামাজ শেষে যারা চলে যাচ্ছিলেন, সবাই উনার কথা শুনতে আবার বসলেন। তিনি ঐ মাসজিদের খতীব এবং অত্র মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা এই যে জমিটা আমার পিতা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে ওয়াকফ করে দিয়েছেন, এতে আমার পিতার কবরের আযাব কতটুকু মাফ হয়েছে, তিনি কতটুকু শান্তিতে আছেন এখন, আমাকে বলুন!
খতীব সাহেব বললেন, ভাই, তিনি যা করেছেন এটা সাদকায়ে জারিয়াহ। এটা তিনি নিজের পরকালীন জীবনের কল্যাণের জন্যই করেছেন। কিন্তু আপনি যা জানতে চাইছেন তাতো আলমে বারযাখের বিষয়, আমরা বলবো কি করে! তবুও তিনি গোঁ ধরে রইলেন। বললেন, আপনারা বলতে না পারলে ওয়াকফ করা ঐ জমিটা আমি নিয়ে যাবো। তখন একজন মুসল্লী উঠে বললেন, আপনার ভেতরে এই মূহূর্তে অনেক রাগ আর ক্ষোভ আছে, তাই না? আচ্ছা, আপনি বলুন তো আপনার রাগের রং কি? রাগের ওজন কতটুকু? রাগ দেখতে কেমন? সবকিছুই কি চর্মচক্ষে দেখা সম্ভব? কিছু বিষয় থাকে অনুভবের, বিশ্বাসের। আলমে বারযাখের বিষয় আপনি চর্মচক্ষে দেখবেন কি করে?

কিন্তু তিনি তার সিদ্ধান্তে অনঢ় রইলেন। খতীব সাহেব হেসে বললেন, ভাই, আল্লাহর দ্বীন প্রচারে আল্লাহ কারোর মুখাপেক্ষী নন। আপনি চাইলে জমিটি এখুনি নিয়ে নিতে পারেন। কেউ বাঁধা দেবেনা। আপনাদের জমি নেয়ার কোন প্রয়োজনই আমাদের নেই। লোকটি জমি আবার নিজ মালিকানায় নিয়ে নিলেন। অথচ ওয়াকফকৃত জমি কেউ আবার নিজ মালিকানায় নেয়ার অধিকার রাখে না। তিনি দুইটা অপরাধ করে বসলেন। ১. আলমে বারযাখের বিষয়ে সন্দেহ। ২. আল্লাহর রাহে ওয়াকফকৃত জমি নিজ মালিকানায় নিয়ে নেয়া।

সেদিন রাতে লোকটার প্রচন্ড জ্বর এলো। সারা শরীর প্রচন্ড ব্যাথায় নীল হয়ে গেল। খুব দ্রুত স্বাস্থ্যের অবনতি হতে থাকলো। পরদিন হাসপাতালে ভর্তি করা হলো। অবস্থা খুব সংকটাপন্ন। ডাক্তার বললেন, উনাকে এই মূহূর্তে যত দ্রুত সম্ভব ঢাকায় নিয়ে যান। আমাদের পক্ষে এর চিকিত্সা দেয়া সম্ভবপর হবে বলে মনে হয়না। ডাক্তারের পরামর্শ মত ঢাকায় নিয়ে এসে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হলো। পথিমধ্যে তিনি বার বার মাকে বলতে লাগলেন, মা আমি জানি, আমি আর বাঁচবোনা, আমার মেয়েটাকে তোমরা দেখে রেখো।

ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করার পরদিন তিনি মারা গেলেন। মৃত্যুর পর তার সারা শরীর কেমন যেন কালচে হয়ে গেল। প্রচন্ড দূর্গন্ধে নাক মুখ চাপা দিয়ে লাশের কাছে যেতে হচ্ছিল। ডাক্তার জানালেন, তার শরীরের ভেতরের সবকিছুই পঁচে গেছে। কি করে মাত্র তিনদিনের মধ্যে এই অবস্থা হলো, অনেক ভেবেও তাঁরা বুঝতে পারেননি। লাশ গ্রামে নিয়ে আসা হলো। তার ভাইয়েরা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করলেন, ওয়াকফকৃত জমিটি আবার নেয়ার জন্য, তার জন্য দুআ করার জন্য এবং মাসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে লাশটি দাফন করার জন্য। কর্তৃপক্ষ জমিটি ফিরিয়ে নিলেন এবং তার পাশেই তাকে দাফন করা হলো।

ঘটনাটা শোনার পর উপস্থিত সবাই অনেকক্ষণ নির্বাক হয়েছিলো। আসলে মানুষ বড়ই অস্থিরপ্রবণ! সে জানেনা তার আয়ু আর কতটুকু, জানেনা কখন থেমে যাবে দেহঘড়ি, অথচ সে হাজারো পরিকল্পনা সাজায়! আর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কখনো কখনো কুপ্রবৃত্তির আনুগত্য করতে গিয়ে অসন্তুষ্ট করে ফেলে তার মহিমান্বিত রবকে। কখনো এই অবস্থাতেই নেমে আসে মৃত্যুর ভয়াবহ অমানিশা! মৃত্যু তো কখনো জীবনের সমাপ্তি নয়, মৃত্যু যে হল অনন্ত জীবনের শুরু!

মহান আল্লাহ সবাইকে বেশি বেশি নেক কাজ করার, পূর্ণ মুমিন হওয়ার, তাঁর অনুগত ও বাধ্যগত বান্দা হয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়ার এবং মৃত্যুর জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকার তাওফিক দান করুন। আমীন।

বই পরিচিতি:
বইয়ের নাম : ভালোবাসার রংধনু
লেখক: ইসরাত জাহান রুবাইয়া
প্রকাশনায় : খান প্রকাশনী
প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী, ২০১৪
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৮
মূদ্রিত মূল্য : ১৫০ টাকা।

#books_of_Khan_prokashoni

বিভাগ :

১১৯ বার পঠিত | ১ টি মন্তব্য | জনের পছন্দ

পাঠকের মন্তব্য:


 ১.

শনিবার ১০ মার্চ ২০১৮ পূর্বাহ্ন ১২:১৫

শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী লিখেছেন :

অনেক ধন্যবাদ ভালো লাগলো




মন্তব্য লিখতে লগইন করুন

লেখকের অন্যান্য পোস্ট সমূহ

জুন ২০১৮ (৩)
এপ্রিল ২০১৮ (৭)
মার্চ ২০১৮ (১৮)
নভেম্বর ২০১৭ (৫)
জুন ২০১৭ (১)
মে ২০১৭ (১)
এপ্রিল ২০১৭ (২)
অক্টোবর ২০১৬ (২)
সেপ্টেম্বর ২০১৬ (৫)
অগাস্ট ২০১৬ (৭)
জুলাই ২০১৬ (৮)
জুন ২০১৬ (৮)
মে ২০১৬ (৯)
এপ্রিল ২০১৬ (৮)
মার্চ ২০১৬ (৪)
ফেব্রুয়ারী ২০১৬ (৯)
জানুয়ারী ২০১৬ (৬)
ডিসেম্বর ২০১৫ (৭)
নভেম্বর ২০১৫ (১১)
অক্টোবর ২০১৫ (৩)
সেপ্টেম্বর ২০১৫ (১১)
অগাস্ট ২০১৫ (১২)
জুলাই ২০১৫ (১১)
জুন ২০১৫ (২০)
মে ২০১৫ (৯)
এপ্রিল ২০১৫ (১২)
মার্চ ২০১৫ (৬)
ফেব্রুয়ারী ২০১৫ (৭)
জানুয়ারী ২০১৫ (৭)
ডিসেম্বর ২০১৪ (৬)
নভেম্বর ২০১৪ (৭)
সেপ্টেম্বর ২০১৪ (৬)
অগাস্ট ২০১৪ (১৭)
জুলাই ২০১৪ (১১)
জুন ২০১৪ (১২)
মে ২০১৪ (৭)
এপ্রিল ২০১৪ (২১)
মার্চ ২০১৪ (১৩)
ফেব্রুয়ারী ২০১৪ (১৪)
জানুয়ারী ২০১৪ (২৬)
ডিসেম্বর ২০১৩ (১৫)

অনুসন্ধান

বিষয়বস্তু ব্লগার আর্কাইভ

সাম্প্রতিক মন্তব্য

চ্যা(লঞ্জ
- শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী


ভালো লাগলো
- শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী


ভালো লাগলো
- শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী


অনেক ধন্যবাদ
- শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী


ভালো লাগলো
- শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী


ধন্যবাদ
- শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী


স্বাগতম
- শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী


অনেক ধন্যবাদ ভালো লাগলো স্বাগতম পিলা
- সায়মা আক্তার


আল্লাহ তাওফীক দিন
- সায়মা আক্তার


ভুলে ব্লগে ঢুকে পড়েছি। এরকম ঠান্ডা ব্
- সায়মা আক্তার


সাম্প্রতিক প্রতি মন্তব্য

প্র.ড. মোহিত কামাল স্যারের কয়েকটি বই
- শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী


আইস্ক্রিম
- শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী


থিউরি অফ হাকীম আল-মীযান-০১
- হাকীম-আল-মীযান


থিউরি ফর হাকীম আল-মীযান
- হাকীম-আল-মীযান


দাজ্জাল, মহাপ্রলয় ও বিচার দিবস
- মাই নেম ইজ খান


আপুর বিয়ে (গল্প নয় সত্যি ঘটনা)
- মিজানুর রহমান


Beads of pain
- হাসান বিন নজরুল


***সতর্কীকরণ***
- হাসান বিন নজরুল


Beads of pain
- হাসান বিন নজরুল


হতাশার মাঝেও সুসংবাদ
- বিন কাউসার